২১ মে, ১৯৮১

‘জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আপনাদের জন্য সংগ্রাম করে যাব’

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২১

জাগরণীয়া ডেস্ক

এই জন্মভূমিতেই আমি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আপনাদের জন্য সংগ্রাম করে যাব। আমি স্বামী-সংসার সব কিছু ছেড়ে আপনাদের ডাকে ছুটে এসেছি। জনগণ ও তাদের সংগঠন আওয়ামী লীগ আমাকে যে স্নেহ, ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছে, আমি যেন তার মর্যাদা রক্ষা করতে পারি। আপনারা আমাকে দোয়া করবেন।

আমি একজন সাধারণ মেয়ে। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে হিসেবেই আমি এই সম্মান পেয়েছি, আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমি যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়তে পারি। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এ দেশের দুঃখী মানুষের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে, পরনের কাপড় ও একটু বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে। আর তাই তিনি শোষণহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছিলেন।

আমার পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলার দুঃখী মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। একটি শোষণহীন সমাজব্যবস্থা কায়েমের জন্যেই তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আমি জীবন দিতে প্রস্তুত। বঙ্গবন্ধুকে বাঙালিরা হত্যা করেনি, বাংলার মানুষ হত্যা করতে পারে না; সাম্রাজ্যবাদ তার এদেশীয় এজেন্টদের দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারা কেবলমাত্র একজন ব্যক্তি বিশেষকেই হত্যা করেনি; একটি জাতির আদর্শ ও আশা-আকাঙ্খাকে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধু শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি শোষণহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যখনই দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন, তখনই সাম্রাজ্যবাদ তাদের এদেশীয় এজেন্টদের সাহায্যে তাকে হত্যা করিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু জনপ্রিয়তা হারিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়, অথচ আমি ঢাকার বিমানবন্দর থেকে বনানী, শেরেবাংলা সগর, টুঙ্গীপাড়া ও সেখান থেকে গোপালগঞ্জ আসার পথে লাখো লাখো জনতার যে সম্মান, যে ভালোবাসা পেয়েছি তা বঙ্গবন্ধুর জন্যেই।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সসম্মানে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং শোষণহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং পরবর্তীতে আরও হত্যার মধ্য দিয়ে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারাও দাবি করেন যে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ ও মানুষের অবস্থার উন্নতির জন্যেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। গত ৬ বছরে দেশের মানুষের কোনোরকম উন্নতি তো আমি দেখিনি।

মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে নিপাতিত হয়েছে। কৃষক-শ্রমিক তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষক তার উৎপাদিত কৃষি পণ্যের মূল্য পাচ্ছে না। তবে কেন বঙ্গবন্ধু, শেখ মণি ও চার নেতাকে হত্যা করা হলো ? আমি আপনাদের কাছে বিচার চাই, আপনারা এর বিচার করবেন......

(এ কথা বলতে বলতে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।)

ভাষণ প্রদানের তারিখ: ২১ মে, ১৯৮১। 

(১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের ঈদগাহ ময়দানে স্মরণকালের বৃহত্তম এক গণ-সংবর্ধনায় বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আবেগঘন ভাষণের সার সংক্ষেপ।)

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত