তারুণ্যবান্ধব ইশতেহার চাই

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:১৮

সফিউল আযম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো শিগগিরই তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনেকেই মনে করেন, এবারের ভোট হবে তারুণ্যনির্ভর। যে দল জনগোষ্ঠীর বৃহৎ এ অংশকে আকৃষ্ট করতে পারবে, তারাই বিজয়ের আলো দেখতে পাবে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৪৪ লাখ। এর মধ্যে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ২০ লাখ।

তরুণ প্রজন্মের বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়। তরুণদের নৈতিক, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির চিন্তা সুদূরপরাহত। যুববান্ধব ইশতেহার তৈরি করা হলে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ৪ কোটি ভোটারের মন জয় করা সম্ভব হবে। তাদের ইচ্ছা ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে পারলে অনেকটাই এগিয়ে যাবে দেশ।

আমাদের দেশে তরুণদের বিরাট একটা অংশ বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। যদিও অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রকৃত কর্মহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি বছর নতুন করে ১৩ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছে। সুতরাং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চাপ রয়েছে অর্থনীতির ওপর। তরুণসমাজ পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেখতে চায় ইশতেহারে।

ইন্টারনেটের বদৌলতে গোটা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। বিশ্বে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা অনেক সহজলভ্য। বাংলাদেশে এখনও আমরা সে পর্যায়ে পৌঁছতে পারিনি। তাই ইন্টারনেট খরচ আরও কমানোর ঘোষণা চায় তরুণসমাজ। বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ই-কমার্সে বাংলাদেশ শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান করছে। একে আরও এগিয়ে নিতে বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং গণজমায়েতের স্থানে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

দেশে তরুণ উদ্যোক্তার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকে উদ্যোগী হয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের অতিক্রম করতে হচ্ছে নানা প্রতিকূলতা। তরুণ উদ্যোক্তা শ্রেণী গড়ে তুলতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, উদ্যোক্তাদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক সব কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা। ইশতেহারে এসব বিষয়ও অন্তর্ভুক্তির দাবি রাখে।

শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেক। প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন কারিগরি শিক্ষার প্রচলন সময়ের দাবি। কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করাও জরুরি। নৈতিক শিক্ষার বিষয়টিতেও জোর দিতে হবে। বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ভ্যাট আরোপ না করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য যানবাহন সহায়তা প্রদান, সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু ও নিয়মিতকরণ প্রয়োজন। রাজনীতিতে মেধাবী যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতে পারলে একটি সুন্দর সমাজ তৈরি হবে। সামাজিক পরিবর্তন বিষয়ক কাজে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে যুবসমাজকে কাজে লাগতে হবে। বেকার সমস্যার সমাধান, জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণকে আমলে নিতে হবে। বস্তুত তরুণসমাজ এমন একটি ইশতেহার চায়, যা বদলে দিতে পারে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক চেহারা।

লেখক: এডিটর ইন চিফ, ইয়ুথ জার্নাল
[email protected]
প্রথম প্রকাশ: যুগান্তর, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮

নির্বাচনী অভিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে jagoroniya.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত