আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখোমুখি ২২৭ আসনে

প্রকাশ | ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:১৩

অনলাইন ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা মুখোমুখি লড়ছেন ২২৭ আসনে। একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় আজ ২৯৯ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। এসব আসনে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৩৩ জন ও স্বতন্ত্র ১২৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ লড়ছে ২৬০ আসনে। দলটি শরিকদের সঙ্গে নৌকা নিয়ে লড়ছে ২৭২ আসনে। বাকি আসনে শরিকরা নিজেদের প্রতীক নিয়ে লড়ছে। মহাজোটের অংশ হলেও জাতীয় পার্টি লড়ছে ১৭৫ আসনে। মহাজোট ও ১৪ দলে থাকা ৪টি নিবন্ধিত দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে আছে।

বিপরীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট লড়ছে ২৮১ আসনে। ১৬টি আসনে তাদের কোনো প্রার্থী নেই। তবে শেষ মুহূর্তে এসে তারা এসব আসনের কয়েকটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে।

এই জোটে বিএনপি লড়ছে ২৫৭ আসনে। যাতে জামায়াতসহ ঐক্যফ্রন্টের শরিকও রয়েছে। এ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলে থাকা ৮টি নিবন্ধিত দল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছে। এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৪ আসনে লড়ছেন নিজস্ব ছাতা প্রতীক নিয়ে। ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও এবার ধানের শীষের প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তবে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

সর্বশেষ প্রার্থী তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, ২২৭ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দুই দলের হেভিওয়েট কয়েক প্রার্থীও এবার মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম নোয়াখালী-৫। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ আসনে দুই প্রার্থীই কয়েকবার করে জিতেছেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দুই প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে অবিরাম অভিযোগ করে যাচ্ছেন।

একই রকম উত্তাপ রয়েছে আরও কয়েকটি আসনে। এর একটি হল ঠাকুরগাঁও-১। এই আসনে লড়ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।

কুমিল্লা-১ আসনে লড়ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি সুবিদ আলী ভূঁইয়া। চট্টগ্রাম-১০ আসনে আছেন বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আফছারুল আমিন। চট্টগ্রাম-১১ আসনে লড়ছেন বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের এমএ লতিফ।
দুই দলের প্রার্থীর কারণে আরও কিছু আসনের দিকে সাধারণ মানুষের উৎসুক দৃষ্টি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির আবদুল মান্নান ও আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-৯ আসনে সাবের হোসেন চৌধুরী ও আফরোজা আব্বাস, গাজীপুর-১-এ মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও বিএনপির চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী।

এছাড়া পঞ্চগড়-১ ও ২, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬, নীলফামারী-১ ও ২, লালমনিরহাট-১ ও ২, রংপুর-২, ৪, ৫ ও ৬, কুড়িগ্রাম-১, ৩ ও ৪, গাইবান্ধা-২ ও ৫, জয়পুরহাট-২, বগুড়া-১ ও ৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, ২ ও ৩, নওগাঁ-১, ২, ৩, ৪ ও ৫, রাজশাহী-৩ ও ৫, নাটোর-১, ২ ও ৩, সিরাজগঞ্জ-১, ৩, ৪, ৫ ও ৬, পাবনা-২, ৩, ৪ ও ৫, মেহেরপুর-২, কুষ্টিয়া-১, ৩ ও ৪, চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২, ঝিনাইদহ-১, ৩ ও ৪, যশোর-২, ৩, ৪, ৫ ও ৬, মাগুড়া-১, নড়াইল-১ ও ২, বাগেরহাট-১, ২, ৩ ও ৪, খুলনা-১, ২, ৩, ৪ ও ৬, সাতক্ষীরা-২, ৩ ও ৪, বরগুনা-১ ও ২, পটুয়াখালী-১, ২, ৩ ও ৪, ভোলা-১, ২ ও ৪, বরিশাল-২, ৪ ও ৫, ঝালকাঠি-২, পিরোজপুর-১, টাঙ্গাইল-১, ২, ৩, ৫, ৬ ও ৭, জামালপুর-২, ৩ ও ৫, শেরপুর-১, ২ ও ৩, ময়মনসিংহ-১, ২, ৩, ৫, ৬, ৭, ৯ ও ১১, নেত্রকোনা-১, ২, ৩ ও ৫, কিশোরগঞ্জ-১, ২, ৪, ৫ ও ৬, মানিকগঞ্জ-১ ও ২, মুন্সীগঞ্জ-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৫, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৪ ও ৫, নরসিংদী-১, ২, ৪ ও ৫, নারায়ণগঞ্জ-১ ও ২, রাজবাড়ী-১ ও ২, ফরিদপুর-১, ২, ৩ ও ৪, গোপালগঞ্জ-১, ২ ও ৩, মাদারীপুর-১, ২ ও ৩, শরীয়তপুর-১, ২ ও ৩, সুনামগঞ্জ-১, ২ ও ৫, সিলেট-১, ৩, ৪ ও ৬, মৌলভীবাজার-১, ৩ ও ৪, হবিগঞ্জ-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ৩, ৫ ও ৬, কুমিল্লা-২, ৩, ৫, ৬, ৮, ৯ ও ১১, চাঁদপুর-১, ২, ৩, ৪ ও ৫, ফেনী-২, নোয়াখালী-১, ২, ৩, ৪ ও ৬, লক্ষ্মীপুর-৩, চট্টগ্রাম-১, ৩, ৪, ৬, ৮, ৯, ১২, ১৩, ১৫ ও ১৬, কক্সবাজার-২, ৩ ও ৪, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে আছে।