ফেসবুকে গুজব তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে র‌্যাবের ৫৭ বিশেষ ক্যাম্প

প্রকাশ | ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:২৩

অনলাইন ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাইবার ওয়ার্ল্ডে ভুয়া সংবাদ ও গুজব ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘র‌্যাব-সাইবার নিউজ ভেরিফিকেশন সেন্টার’ নামে নতুন একটি পেজ খোলা হয়েছে। যেখান থেকে যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যাবে সহজেই।

এছাড়া দেশজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে র‌্যাবের ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। স্থাপন করা হয়েছে ৫৭টি বিশেষ ক্যাম্প। সার্বক্ষণিক চারটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকবে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে দেশের যেকোনো প্রান্তে পাঠানো হবে র‌্যাবের স্পেশাল ফোর্স।

২৭ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে র‌্যাবের নিরাপত্তা প্রস্তুতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।

একাদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সফল করতে গত এক বছর ধরেই র‌্যাব কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জঙ্গি হুমকির আশঙ্কায় নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের একটা ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করেছি। সাইবার ওয়ার্ল্ডে একটি গোষ্ঠী মিথ্যা তথ্য প্রচারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা এসব গুজব প্রচারে লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। গত দুই মাস বা তারো বেশি সময় ধরে এসব গুজব প্রতিরোধে র‌্যাব সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’

‌‘আজ থেকে ‘র‌্যাব-সাইবার নিউজ ভেরিফিকেশন সেন্টার’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে। সাইবার ওয়ার্ল্ডের যেকোনো নিউজ, তথ্য, ভিডিও সম্পর্কে সন্দিহান হলে কেউ যদি ওই পেইজে যোগাযোগ করে, তাহলে দ্রুততার সঙ্গে আমরা যাচাই করে ফিডব্যাক দেব। একটি টিম সার্বক্ষণিক এই দায়িত্ব পালন করবে। যেকোনো তথ্যের মাধ্যমে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করা হলে তা প্রতিরোধে র‌্যাব তৎপর রয়েছে।’

ইতোমধ্যে পরিপূর্ণ প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘সবসদস্যের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত করতে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী র‌্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।’

‘আমরা হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছি। নিজেদের দু’টি এবং সেনাবাহিনীর দু’টি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। বিশেষ প্রশিক্ষিত একটি স্পেশাল ফোর্স ঢাকায় প্রস্তুত থাকবে। দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো গোষ্ঠী সহিংসতার দুঃসাহস দেখালে দ্রুততম সময়ে স্পেশাল ফোর্সের সদস্যদের পাঠানো হবে।’

‘দেশজুড়ে র‌্যাবের ১০ হাজার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ৫৭টি বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের বোমা নিষ্ক্রিয় দল দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুত থাকবে। সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।’

আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে অবস্থান নিয়ে কনফিডেন্স বিল্ডিংয়ের দায়িত্ব পালন করা হয়েছে, মূলত বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) থেকে দেশজুড়ে র‌্যাব সদস্যরা মূল দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান র‌্যাব ডিজি।

কোথাও কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি দেখলে র‌্যাবকে জানানোর অনুরোধ জানিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গ্রামে কিংবা নগরে কোথাও কোনো অপরিচিত মুখ দেখলে র‌্যাবকে জানাবেন। আমরা দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বন্ধ হতে দেব না। যেকোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলা করা হবে।’

‘ভোট কেন্দ্রের নির্ধারিত এলাকায় কোনো অপকর্ম বরদাসত করা হবে না। নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, আমাদের সবার দায়িত্ব সেটাকে রুখে দেওয়া। কোথাও কালো টাকা বিতরণের খবর পেলে র‌্যাবকে জানানোর অনুরোধ রইলো। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা যেকোনো বাহিনীর পরিচয়ে কেউ যদি অর্থ দাবি করে সে বিষয়টিও সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবকে জানাবেন।’

নির্বাচনকে ঘিরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘তবে আমরা সবধরনের বিষয়েই প্রস্তুত থাকতে চাই। যেন কোনো ঘটনা ঘটলে আমাদের সারপ্রাইজড হতে না হয়। আমরা জনগণকে বলতে চাই, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা রয়েছে, তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

মতিঝিলে একটি অফিস থেকে কালো টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। ওই অফিস থেকে দেড়শ’ কোটি টাকা ছড়ানোর রেকর্ড পেয়েছি, আরও আড়াইশ’ কোটি টাকা ছড়ানোর তথ্য পেয়েছি। যেহেতু মানি লন্ডারিংয়ের মামলা তাই এটি তদন্ত করবে সিআইডি। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে, তাদের রেজিস্টারে কিছু সাংকেতিক শব্দ পেয়েছি যেগুলো পাঠোদ্ধার করা হবে। সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই মামলাটি তদন্ত করা হবে।

অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে র‌্যাবের চমৎকার সমন্বয় রয়েছে জানিয়ে র‌্যাব প্রধান বলেন, ‘ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে ভোটারদের যাতায়াত এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে আমাদের দায়িত্ব, উদ্দেশ্য এবং কর্তব্য পালনে সর্বোচ্চ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।’