সরাসরি নির্বাচনে ৬৮ জন নারী প্রার্থী

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:২০

জাগরণীয়া ডেস্ক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৯টি আসনে ৬৮ জন নারী প্রার্থী সরাসরি নির্বাচন করছেন। ময়মনসিংহ-৪ ও ৭ আসন থেকে ‘লাঙল’ প্রতীক নিয়ে  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান রওশান এরশাদ । এবার একাধিক আসনে নির্বাচনে থাকা একমাত্র নারী প্রার্থী তিনি। 

গত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক আসনে প্রার্থী হলেও এবার তিনি কেবল টুঙ্গীপাড়ার আসন থেকেই ভোট করছেন। রংপুরে তার আসনে নির্বাচন করছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবার তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না তিনি। 

৬৮ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের হয়ে ‘নৌকা’ প্রতীকে ২০ জন, বিএনপির হয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১৪ জন, জাতীয় পার্টির ‘লাঙল’ নিয়ে ৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৬ জন সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

এছাড়া ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির (এনপিপি) ৪ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) ৩ জন, জাকের পার্টির ৩ জন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএলের ২ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ২ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠে।

এছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, গণফ্রন্ট, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির একজন করে নারী প্রার্থী নির্বাচন করছেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী চার ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের ওপরে স্থান পেয়েছে।

এর মধ্যে একটি হলো- সরকারপ্রধান হিসেবে কত সময় ধরে একজন নারী রয়েছেন।  বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে দেশের নেতৃত্বের স্থান দখল করে আছেন। তাই নারী সরকারপ্রধানের দিক দিয়ে বিশ্বসেরা হয়েছে বাংলাদেশ।

এছাড়া নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে গতবারের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম এবং নারী মন্ত্রীর সংখ্যার দিক থেকে ১২৬তম।

তবে ৬৮ জন নারী প্রার্থীর সংখ্যা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি হলেও, সরাসরি নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে নারীর হার এখনো ১০ শতাংশের নিচে- যা নিয়ে সন্তুষ্ট নন নারী অধিকারকর্মীরা। নির্বাচন ও নারী অধিকার নিয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা বলছেন, নির্বাচনে নারীর সংখ্যা বাড়লেও গুণগত পরিবর্তন তেমন একটা হয়নি।

২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বিধিমালা প্রণয়নের সময় ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের শর্ত দিয়েছিল। তবে গত এক দশকেও তা পূরণ করতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো।

এছাড়া ঘুরে ফিরে একই মুখ, তরুণ নারীর উপস্থিতি এখনো কম। পারিবারিক রাজনীতির পরিমন্ডল থেকে বেরিয়ে আসা নারীর সংখ্যাও নগন্য। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারীর সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা ইতিবাচক। কিন্তু অন্যান্য সূচকের অগ্রগতির তুলনায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অগ্রগতি ততটা হয়নি।

উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ১১৮ জন মনোনয়ন পেলেও চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬৮ জন। স্বতন্ত্র ৯৯ জন ও দলীয় ১৭৪৯ জনকে নিয়ে তিনশ আসনে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ১৮৪৮ জন।

 অর্থাৎ প্রার্থীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩.৬৮ শতাংশ। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত