বগুড়ার দুই আসনে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে জাপা

প্রকাশ | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৫০

অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার আর ১০ দিন বাকি। এরই মধ্যে বগুড়ার দুটি আসন বিএনপির প্রার্থী শূন্য হয়ে গেল।

সোমবার উচ্চ আদালতের পৃথক আদেশে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া) এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের দুজনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়। আসন দুটি দেড় যুগ ধরে বিএনপির দখলে ছিল। এবার এই দুই আসনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে আসন দুটিতে নৌকার প্রার্থীও নেই। ফাঁকা মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে জাপা।

মোরশেদ মিলটনের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আগেই রিট করেন বগুড়া-৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা বেগম। আদালত রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়। ফলে মোরশেদ মিলটনের নির্বাচন করার বিষয়টি আটকে যায়।

মোরশেদ মিলটনের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী ফোরদৌস আরা গাতবলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ আজম খানের স্ত্রী। এবার এই আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটের প্রার্থী জাপার বর্তমান সাংসদ আলতাফ আলী।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত বগুড়া-৭ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে জেপির (মঞ্জু) এ টি এম আমিনুল ইসলামকে হারিয়ে সাংসদ হন জাপার আলতাফ আলী। তিনি ভোট পান ১৭ হাজার ৮৭৯। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯।

এবার এই আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হলে দলীয় প্রার্থী হন মোরশেদ মিলটন। ভোটের মাঠে লড়াইয়ের জন্য তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন।

তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেই প্রার্থী হয়েছিলাম। এখন পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার অজুহাত তুলে প্রার্থিতা আটকে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এ রকম হুটহাট সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মনোবল হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক নেতা-কর্মী হতাশ। বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে এটা সরকারের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র। সরকারের একই ষড়যন্ত্রের কারণে খালেদা জিয়া এই আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ধানের শীষের প্রার্থীশূন্যের একই চিত্র বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনেও। এখানে প্রথমে বিএনপি থেকে ধানের শীষের প্রাথমিকভাবে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয় বিএনপির সাবেক সাংসদ ও মানবতাবিরোধী মামলায় পলাতক আসামি আবদুল মোমিন তালুকদার, তাঁর স্ত্রী মাছুদা মোমিন ও ভাই আবদুল মোহিত তালুকদারকে। বাছাইয়ের সময় উপজেলা পরিষদের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় বাতিল হয় মোহিতের মনোনয়নপত্র। মোনিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকায় দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় মাছুদাকে। পরে হাইকোর্ট আদেশ দেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরাও স্বপদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন। শেষ মুহূর্তে এসে বিএনপির দলীয় প্রার্থী করা হয় আবদুল মোহিত তালুকদারকে। পরে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এতে আবারও আটকে যায় আবদুল মোহিতের নির্বাচন করার বিষয়টি।

১৯৯১ সাল থেকে আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সালে ধানের শীষ নিয়ে সাংসদ হন আবদুল মোমিন। ২০১৪ সালে সমঝোতার ভিত্তিতে আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ হন জাপার নুরুল ইসলাম তালুকদার। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪২৪ জন। এবারও এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন নুরুল ইসলাম। আর আইনি জটিলতায় নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপির প্রার্থী।